চিঠি বিলি (পঞ্চদশ অধ্যায়) (রোকনুজ্জামান খান)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - চারুপাঠ - কবিতা | NCTB BOOK
5.6k
Summary

সারসংক্ষেপ:

কবিতাটিতে চিঠি বিলি করার দৃশ্য বর্ণিত হয়েছে যেখানে ব্যাঙছাতা মাথায় নিয়ে চিঠি বিলি করছে। খেয়ানায়ের মাঝি চিংড়ি মাছের বাচ্চা, যে সাঁঝের বেলায় আলোতে জীবনযাপন করছে। নদীর ওপারে থেকে ব্যাঙ বলছে, ভেটকি মাছের নাতনি বিদেশে গেছে। এক অন্য চিঠিতে দেশের উপর দারুণ বর্ষার কথা জানানো হয়েছে এবং চিংড়ি মাঝি ছাতা কিনে বর্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চিঠি বিলি

রোকনুজ্জামান খান

ছাতা মাথায় ব্যাঙ চলেছে
চিঠি বিলি করতে
টাপুস টুপুস ঝরছে দেয়া
ছুটছে খেয়া ধরতে।
খেয়ানায়ের মাঝি হলো
চিংড়ি মাছের বাচ্চা,
দু চোখ বুজে হাল ধরে সে
জবর মাঝি সাচ্চা।
তার চিঠিও এসেছে আজ
লিখছে বিলের খলসে,
সাঁঝের বেলার রোদে নাকি
চোখ গেছে তার ঝলসে।
নদীর ওপার গিয়ে ব্যাঙা
শুধায় সবায়: ভাইরে,
ভেটকি মাছের নাতনি নাকি
গেছে দেশের বাইরে?
তার যে চিঠি এসেছে আজ
লিখছে বিলের কাতলা:
এবার সারা দেশটি জুড়ে
নামবে দারুণ বাদলা।
তাই তো নিলাম ছাতা কিনে
আসুক এবার বর্ষা,
চিংড়ি মাঝির খেয়া না আর
ছাতাই আমার ভরসা।

Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

আমি যে গহীন গাঙের নাইয়া।

সাঁঝের বেলায় নাও বাইয়া যাই,

আপন মনে চাইয়া।।

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

জোনাক জ্বালায় আপন বাতি গান ধরেছে পুষি

হুতুমপেঁচা মন্ত্র পড়ে দেখে সবাই খুশি।

উদবিড়ালীর মাছ আনতে হলো বেজায় দেরি

ইলিশ' এবং ভেটকি দেখে হর্ষ বিড়ালেরই।

প্রাণীদের বিভিন্ন চরিত্রে অবতীর্ণ হওয়া
প্রাণীদের আনন্দপূর্ণ সময় কাটানো
প্রাণীদের কর্মজীবন
প্রাণীদের উপকারী ভূমিকা

শব্দার্থ ও টীকা

388

কাতলা - মাছের নাম।
খলসে - মাছের নাম।
খেয়া - নদী পার হওয়ার নৌকা।
খেয়া না - খেয়া নৌকা।
খেয়ানায়ের মাঝি - খেয়া নৌকার মাঝি।
চিঠি - পত্র; খবর বা কুশলাদি জানিয়ে কাউকে লেখা।
চিঠি বিলি করা - চিঠি পৌঁছে দেওয়া।
ঝলসানো - উজ্জ্বল আলোয় চোখ ধাঁধানো।
টাপুস টুপুস - বৃষ্টি পড়ার শব্দ।
দেয়া - মেঘ।
বাদলা - একনাগাড়ে বৃষ্টি।
ভরসা - নির্ভর করা, অবলম্বন।
ভেটকি - মাছের নাম।
সাঁঝের বেলা - সন্ধ্যার সময়।
সাচ্চা - সত্য ।

Content added By

পাঠের উদ্দেশ্য

325

ছড়া ও ছন্দের মাধ্যমে কল্পনাকে উদ্দীপিত করা।

Content added By

পাঠ-পরিচিতি

384

রোকনুজ্জামান খানের 'হাট্ টিমা টিম' বই থেকে ছড়াটি সংকলন করা হয়েছে। এ ছড়ায় ছন্দে ছন্দে মজার একটি গল্প পরিবেশিত হয়েছে। এখানে দেখা যাচ্ছে, চিঠি বিলি করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছে একটি ব্যাঙ। কিন্তু বাইরে টাপুস টুপুস করে বৃষ্টি ঝরছে। ব্যাঙটিকে খেয়া নৌকায় নদী পাড়ি দিতে হবে। নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করছে চিংড়ি মাছের বাচ্চা। তাকে চিঠি লিখেছে বিলের খলসে মাছ। খলসে লিখেছে, সন্ধ্যাবেলার রোদে তার চোখ ঝলসে গিয়েছে। ওদিকে ভেটকি মাছের নাতনির কাছে চিঠি লিখেছে বিলের কাতলা মাছ। চিঠিতে কাতলা জানিয়েছে, সারা দেশ জুড়ে এ বছর খুব বৃষ্টি হবে। এই ভয়ে ব্যাঙ একটি ছাতা কিনে নিয়েছে। কারণ চিংড়ি মাঝির খেয়া নৌকার ওপর ব্যাঙের কোনো ভরসা নেই। ছড়াটির মাধ্যমে রোকনুজ্জামান খান আমাদের কল্পনাকে নিয়ে যান জলজ প্রাণীদের জগতে। সেখানে আমরা অদ্ভুত সব ঘটনার মুখোমুখি হই। ব্যাঙের চিঠি বিলি করা, ছাতা কেনা, চিংড়ি মাছের নৌকার মাঝি হওয়া কিংবা মাছেদের চিঠি লেখা বাস্তবে অসম্ভব ঘটনা। কিন্তু সব ঘটনাকেই আমরা কল্পনা করে নিতে পারি। কেননা মানুষের কল্পনা অসীম। ছড়া, কবিতা ও গল্পের মাধ্যমে কবি-লেখকেরা মানুষের জীবনছবি আঁকার পাশাপাশি মানুষের অদ্ভুত ও অসম্ভব কল্পনাকেও আঁকতে পারেন।

Content added By

লেখক-পরিচিতি

491

রোকনুজ্জামান খান ১৯২৫ সালে রাজবাড়ি জেলার পাংশায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন শিশু সাহিত্যিক। সাংবাদিক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। 'দাদাভাই' ছদ্মনামে তিনি পত্রিকায় শিশুদের জন্য বিশেষ পাতা সম্পাদনা করতেন। এ নামেই রোকনুজ্জামান খান বিশেষভাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ বই 'হাট্ টিমা টিম' (১৯৬২), 'খোকন খোকন ডাক পাড়ি'। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকার নাম 'কচি ও কাঁচা'। রোকনুজ্জামান খান 'কচি-কাঁচার মেলা' নামে একটি শিশু-কিশোর সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

কর্ম-অনুশীলন

308

১. এ কবিতায় যেসব প্রাকৃতিক উপাদানের নাম আছে, তার প্রতিটির এক বাক্যের পরিচয়সহ তালিকা প্রস্তুত করো (দলগত কাজ)।
২. কোনো মজার ঘটনা বর্ণনা করে বন্ধুকে চিঠি লেখো (একক কাজ)।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...